স্বপ্ন পুঁড়ে ছাঁই হয়ে গিয়েছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দিনমজুর ২৫টি পরিবারের। সারাদিন কাজ করে রাতে বাড়িতে পরিবার পরিজনদের জন্য দু’মোটু ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করাই যাদের নেশা এবং পেশা। এইবার আগুনে পুঁড়ে ছাঁই হয়ে গিয়েছে সেই পরিবারের মানুষদের ঘরবাড়ি। ২৪ মে(রবিবার) উপজেলার বলিপদুয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
সপ্তাহে দুইদিন বাগমারা বাজারে ধানের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন চারু মিয়া। মা’কে নিয়ে তাঁর সংসার চার চালা টিনের ঘরে থাকতেন তিনি। এইবার সেই থাকার ঘরটুকুও হারালেন। স্বজোড়ে চিৎকার করে কাঁন্না করছিলেন তিনি।
রবিউল ভ্যান চালক ছোট দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। চার চালা টিনের ঘরে থাকতেন। প্ররিশ্রমি রবিউলের কান্নায় অসহায়ত্ব দেখা মিলেছে, কিভাবে আবার জীবন শুরু করবে এইভেবে কান্না করছেন।
লিটন মিয়া বাজারে বাজারে গুরে চটপটি বিক্রি করেন দুই মেয়ে এক ছেলে, স্ত্রী ও অসুস্থ মা’কে নিয়ে তার সংসার চলে। আগুনে ঘর পুঁড়ে ছাঁই হয়ে গিয়েছে সকল কিছু। তারই সাথে নিঃশ্ব হয়ে গেলেন তিনি।
কবির হোসেন ভাড়ায় চালিত একটি সিএনজি চালক প্রতিদিন মজুরি হিসেবে টাকা পায়। সেই টাকার সংসারে থাকা চলে তার। ঘরে আগুন লেগেছে দেখে স্টক করে জীবন মরন সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তারই স্ত্রী।
ধানের মজুরির কাজ করে মহসিন পরিবারের ৪জন সদস্য নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। আগুনে পুঁড়ে থাকার ঘর ছাঁই হয়ে গিয়েছে শুনে মাটিতে লুটিয়ে পরেছেন তিনি।
একইভাবে সম্পূর্ণ রূপে ২৫টি পরিবার নিঃশ্ব হয়ে গিয়েছেন। ঘরে থাকা সকল মালামাল পুঁড়ে ছাঁই হয়ে গিয়েছে।
লালমাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি ড. শাহজাহান মজুমদার বলেন, ২০১৭ সালে লালমাই উপজেলা হয়েছে কিন্তু এখনো কোন ফায়ারসার্ভিস স্টেশন স্থাপন হয়নি যার কারনে আমাদেরকে আগুন নেবাতে পাশ্ববর্তী উপজেলার উপর নির্বর করতে হয়। আজকে যদি নিজেদের উপজেলায় ফায়ারসার্ভিস স্টেশন থাকতো হয়তো আগুন লাগার ২০ মি. এর মধ্যে আগুন নিবানো সম্ভব হতো। পরিবার গুলোর জন্য খুবই কষ্ট হচ্ছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, এখানে যে পরিবার গুলোর ঘরবাড়ি পুঁড়ে ছাঁই হয়ে গিয়েছে সকলে তাঁরা দিনমজুর। জীবনের সাথে যুদ্ধ করে সংসারের ভরনপোষণ চালাচ্ছে সবাই। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি দেখে নিজেকে সামলাতে পারছিনা। আমি স্ব শরীরে এখনি যাচ্ছি।
এই বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, আগুনে পুঁড়ে ছাঁই হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোকে দেখতে যাচ্ছি আমি। খুবই কষ্ট হচ্ছে কথা বলার ভাষা নেই। সরকারের পক্ষথেকে যতটুকু সম্ভব তাদের পাশে দাঁড়াবো।