কুমিল্লার লালমাই উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় প্রথমবারের মতো ছাত্র সমন্বয়ক, লালমাই উপজেলা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পরিষদ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনতা, গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে পরিচিত সভা করেন ইউএনও এহসান মুরাদ। এসময় হেঁটে হেঁটে নতুন ভবনের বিভিন্ন রুমে কোথায় কে বসবে তা লালমাইবাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমাই উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ ও স্থানীয়দের আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভবনের দ্বিতীয়তলায় হাঁটতে হাঁটতে ইউএনওকে প্রশ্ন করে শামীম মজুমদার বলেন, আমরা ছাত্র সমন্বয়ক এবং এলাকাবাসী, লালমাই উপজেলা বাস্তবায়নকারী পরিষদ কেন এই উপজেলা বাস্তবায়নে জন্য আমাদেরকে একটি পরিষদ খুলতে হলো? কাজ চার বছর হয়ে গেছে আমরা দেখি কাজের কোন অগ্রগতি নেই! আপনি বলছেন কাজটা হচ্ছে কিন্তু একটা ভবন করতে যদি চার বছর সময় লাগে স্যার তাহলে আমরা পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শেষ করতে কত বছর সময় লাগবে? এবং এলাকাবাসী কতদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সময় পাবে। জবাবে, ইউএনও এহসান মুরাদ বলেন, আপনাদেরকে ধন্যবাদ কেউ উত্তেজিত হবেন না। আপনাদেরকে এতটুতু আশ্বস্ত করা গেলে আপনাদের মনে যে প্রশ্ন ছিল আদৌ এখানে উপজেলা হবে কি হবে না। আপনাদেরকেতো এইটুকু নিশ্চিত করা যাচ্ছে এখানে উপজেলা হচ্ছে। যে বিষয়গুলো আপনারা প্রশ্ন করেছেন এই বিষয়গুলো কিছু ক্ষেত্রে এইখানকার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমারও উদ্ধেগ হয়েছে। এবং সে জন্য যথাউপযুক্ত প্রশ্ন তুলে যে কতৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া দরকার আমি দিয়েছি। তবে,হ্যাঁ আপনার প্রশ্ন যৌক্তিক চার বছরেও কেন কাজ শেষ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা হয়তো আগেও ছিল এখনো আছে। তবে, যৌক্তিক জটিলতা আপনারা জানেন পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অনেক ঠিকাদারই আত্নগোপনে আছে। এই জন্য হয়তো কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে, এই ৬ মাসের আগের যে সাড়ে ৩ বছর সেটার জন্য টেকনিক্যাল যে টীম সেই সংশ্লিষ্ট যে বিভাগ রয়েছে তাদেরকে যদি প্রশ্ন করেন দেশের নাগরিক হিসেবে সেটা আরো উর্যমুখী হবে। আপনারা জাননেন আমি এখানে এসেছি ৮ই সেপ্টেম্বর। তো আপনারা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট প্রশ্ন করেন। এবং আমাদের ডিসি স্যার খুবই ভাল মনের মানুষ ওনি লালমাই সম্পর্কে সব সময় খবর রাখেন। আপনারা চাইলে স্যারের মাধ্যমেও কথা বলতে পারেন।আশা করি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রশ্ন করলে আপনারা উত্তর পেয়ে যাবেন।

এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লালমাই প্রতিনিধি নোমান হোসেন বলেন, স্যার এই পর্যন্ত লালমাই উপজেলা বাস্তবায়ন করতে কোন কাজে আপনি কোন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন কিনা? আপনিতো চলে যাবেন এই দরনের কোন কিছু হয়ে থাকলে আপনি আমরা যারা ছাত্র প্রতিনিধি আছি কিংবা লালমাইবাসী আছে যদি আপনি বলে যেতেন। জবাবে ইউএনও বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যারা এখানে আছেন প্রশ্নের জবাবে আমি বলবো এখানে কেউ কুচক্রী নেই। আপনি তাকিয়ে দেখেন এখানে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এসেছে। সবচাইতে বড় কথা আপনাদের মধ্যে বিরোধ থাকলেও লালমাই প্রশ্নে সবাই এক থাকবেন। তাছাড়া, আপনারা আবারও প্রমান করেছেন আপনারা সবাই একই জায়গায় আছেন। আপনাদেরকে ধন্যবাদ দিবো আমি। এবং ইউএনও সহ প্রত্যেকটা দপ্তরের সকলকে আপনারা সাহায্য করবেন। আপনাদের সামগ্রিক সহযোগিতার কারনে কুচক্রী মহলের মুখোমুখি হতে পেরেছি এবং সেটিকে হটিয়ে দিয়েছি। এবং এইভাবে আপনাদের সহযোগীতা যদি থাকে আগামীদিনে ষড়যন্ত্রকারীদের আমরা উৎখাত করে দেবো।
উপজেলা কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী পরিষদ সদস্য সচিব বি এইচ এল হাবিব বলেন, আমরা নিজেদের বাড়ি থেকে চেয়ারটেবিল নিয়ে এসেছি। এই উপজেলা আমাদের মা এটা আমরা বাঁচাবো। আগামীতে যদি উপজেলা নিয়ে আর কোন ষড়যন্ত্র করা হয় প্রতিরোধ করবো ইনশাআল্লাহ।
পরিচিতি সভায় লালমাই উপজেলা জামায়েত ইসলামী সেক্রেটারি ইমাম হোসেন বলেন, সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে লালমাই উপজেলার সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম সরকারি ভবনে পরিচালিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, লালমাই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফরহাদ আলম খান, বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন, ভূলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজিব, বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মালেক, বৈষম্যের বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি নোমান, ইমন, লালমাই উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক শামীম মজুমদার, সদস্য সচিব বিএইচ এল হাবিব, লালমাই উপজেলা জামায়েত ইসলামী সেক্রেটারি ইমাম হোসেন, বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, রুহুল আমিন, মনিরুজ্জামান প্রমুখ।