সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সকল ইউপি সদস্য স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে তাদের স্বাক্ষরিত অনাস্থাপত্রটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জমা দেন।

কুমিল্লা লালমাই উপজেলার ৯নং বাকই উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও কার্যালয়ে অনুপস্থিতসহ নানা অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেলাল চৌধুরীর নিকট লিখিত অনাস্থাপত্র জমা দিয়েছেন ইউনিয়নের ১২জন সদস্য (মেম্বার)।

অনাস্থাপত্র জমা শেষে ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রবিউল আলম খোকন বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে তার দুর্নীতির কারণে আমরা সকল ইউপি সদস্য উপস্থিত হয়ে অনাস্থা দিয়েছি। আমরা তাকে পরিষদের দায়িত্বে চাইনা। অনাস্থাপত্রটি আমরা এই মাত্র ইউএনও স্যারের কাছে জমা দিয়ে এসেছি।

ইউপি সদস্য (নারী) অঞ্জনা সিংহ বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান আমার সাথে অনেক দুর্নীতি করেছে। উনি আমার থেকে স্বাক্ষর নিয়ে লাখ লাখ টাকা উঠিয়েছে বিনিময়ে আমাকে পাঁচশো-এক হাজার টাকা দিত।
৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবদুল করিম বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান মিজান সাহেব প্যানেল চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চেকে সই করে যে টাকা উত্তোলন করতেন আমরা এতোদিন তা জানতাম না। আজকে জানার পর আমরা সবাই মিলে চেয়ারম্যানকে অনাস্থা দিয়েছি।
প্যানেল চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাকই উত্তর ইউনিয়নের সকল জনগণের একটাই চাওয়া মিজান চেয়ারম্যান এখানে চেয়ারম্যানি করতে পারবে না। উনার অনিয়ম দুর্নীতির কারণে মানুষ দিশেহারা। তাই আমরা বাধ্য হয়ে উনার বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছি।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হেলাল চৌধুরী জানান, বাকই উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ১২জন মেম্বার স্বাক্ষরিত একটি অনাস্থাপত্র পেয়েছি। অনাস্থাপত্রটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা তা বাস্তবায়ন করবো।