কুমিল্লার লালমাইয়ে সরকারি খাস জমির পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির কিছু অংশ নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাদ্দকৃত পাবলিক টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের ভাবকপাড়া বাজারে। এ বিষয়ে আদালতে ১৪৫ ধারা জারি করলেও স্থানীয় ইউপি সদস্য তা না মেনেই কাজ চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৃত এড. কেরামত আলীর পরিবার।
এ ঘটনায় এড. কেরামত আলীর কন্যা নার্গিস মোর্শেদা অভিযোগ করে বলেন, ভাবকপাড়া বাজারের জমি নিয়ে তিনটি মামলা চলমান অবস্থায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ইউপি সদস্য জোরপূর্বক আমার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির কিছু অংশ নিয়ে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছে। অথচ স্থাপনার দক্ষিণে সরকারি খাস জমি বাড়তি রয়েছে। গত সোমবার (৮ জুলাই) লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাতুন নাহার স্যার ভাবকপাড়া বাজারে আসেন এবং জমি মেপে চলে যান। কিন্তু আমরা জানিনা। পরে আমি স্যারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন যে আপনি এখানে জমি পাবেন না। অথচ পাঁচজন সার্ভেয়র জমি মেপে দেখেন যে স্থাপনার ভিতরে আমার জমিও আছে। আমার প্রায় ৬ ফিট জমি এই স্থাপনার ভিতরে রয়েছে। এক পর্যায়ে এসিল্যান্ড স্যার আমাকে বলে শুনেন এখানে জনগণের জন্য একটা পাবলিক টয়লেট করা হয়েছে। আপনি কিছু বলবেন না, সদকায়ে জারিয়া করে দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা করেছি ব্যাপারটা এমন না। পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। আমরা জমিটা দেখিয়ে দিয়েছি মাত্র। আর গত সোমবার এসিল্যান্ড স্যার এসে বলে গেছে পাবলিক টয়লেট সরকারি খাস জমিতেই নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, গত সপ্তাহে লাকসামের এসিল্যান্ড এসে জায়গা নির্ধারণ করে দিয়ে গেছে। কারো ব্যক্তিগত জায়গা পড়েনি। সরকারি খাস জায়গাতেই এটা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মমিন আলী বলেন, আমাকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্য জমি বুঝিয়ে দিয়েছে আমি কাজ করেছি৷ কাজ শুরুর কিছুদিন পর এটা নিয়ে ঝামেলা তৈরি হলে এক মাস কাজ বন্ধ থাকে। পরে আবার কাজ শুরু করি।
এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাতুন নাহার মুঠোফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলন, কাগজপত্র দেখা ছাড়া এখন কিছু বলতে পারছি না। আর আমি একটু ব্যস্ত আছি, আপনার কোনো তথ্য জানার থাকলে অফিসে এসে জেনে যাবেন।
এ বিষয়ে লাকসামের ইউএনও আবদুল হাই সিদ্দিকী বলেন, কারো ব্যক্তিগত জায়গায় পাবলিক টয়লেট হওয়ার কথা না। এসিল্যান্ড যদি সেখানে গিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সে পাবলিক টয়লেট ব্যক্তিগত জায়গায় করতে দেয়নি। সরকারি খাস জায়গা যেটা সেখানেই করেছে।