স্মরনকালের ভয়াবহ বন্যায় কবলিত হয়েছে কুমিল্লা। কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় পানি কমার সাথে সাথে পানিবাহিত রোগের প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে,বানভাসি মানুষ প্রায় ৫০ হাজার। পানিবন্ধি অবস্থায় সাড়ে ১২ হাজার। মোট ৬৭টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টিতে অবস্থান নিয়েছিল ১হাজার পুরুষ, ৮৮২ জন নারী, ২১জন গর্ভবতী নারী, ৪৯৮ জন শিশু, ৬জন প্রতিবন্ধী। যাদের চিকিৎসা সেবায় সব সময় কাজ করে চলেছে ১০টি মেডিকেল টীম। তাছাড়া, অনেক ডাক্তার নিজের এলাকায় এসে ফ্রি মেডিকেল সেবাও দিয়ে যাচ্ছেন রীতিমতো।

এই পর্যন্ত বন্যায় কবলিত মানুষদের মাঝে সরকারি ভাবে ৩১ মেট্রিক টন চাউল, ৩৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ঔষধ, শিশু খাদ্য বিতরন করা হয়েছে। এছাড়াও, উপজেলার ভাবকপাড়া বন্যায় কবলিত হয়ে ৩টি ঘর ভেঙ্গে যাওয়াতে পরিদর্শনে গিয়েছেন ইউএনও মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী। পাশাপাশি দিনরাত এক করে পানিবন্ধি মানুষের সেবায় কাজ করে চলেছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফরহাদ আলম খাঁন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাগন।

এছাড়াও বানভাসি মানুষদের পাশে শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ঔষধ, শিশু খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী, বিএনপি, লালমাই ছাত্র সংসদ ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠন গুলোর নেতাকর্মীরা।
রফিকুল ইসলাম নামক একজন বলেন, আমার সাজানো গোছানো সংসার নিমেশেই বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছে জীবন বাঁচানোর জন্য পরিবার নিয়ে যুক্তিখোলা আশ্রয় কেন্দ্র এসে উঠি। বিশেষ করে জামায়াতের কর্মী ভাইয়েরা যে পরিমান সাহায্য সহযোগিতা করেছে তা মুখে বলে বুঝাতে পারবনা।
বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে নবজাতকের মা ফাতেমা আক্তার বলেন, “বন্যায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা অবস্থায় গভীর রাতে সরকারিভাবে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে কন্যাসন্তানের মা হয়েছি। আমরা সুস্থ আছি। আমাদের চিকিৎসায় ওষুধ ও শিশু খাদ্যের ব্যয় বাবদ ‘উদ্দীপন’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন চার হাজার টাকা অর্থ সহায়তা করেছে। এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় আমরা এখন বাড়িতে আছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাকিল আহম্মেদ বলেন, বন্যার প্রথম দিন থেকেই আমরা বানভাসি মানুষদের সহযোগীতায় কাজ করে যাচ্ছি। যেখানেই সহযোগিতার প্রয়োজন শুনা মাত্র আমরা ছুটে যাচ্ছি। তাছাড়া, লালমাই ছাত্র সংসদও প্রতিনিয়ত বানভাসি মানুষদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
বিএনপি নেতা ওমর ফারুক সুমন বলেন, আমাদের নেতা সাবেক সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরীর নির্দেশে বন্যার্তদের সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
উপজেলা জামায়েত ইসলামীর এসেস্টেন্ট সেক্রেটারি ইমাম হোসেন বলেন, দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা আমাদের কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যার্তদের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। অতীতেও আমরা দুর্যোগ মোকাবেলা মাঠে ছিলাম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নাছির উদ্দিন বলেন, বন্যার্তদের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য আশ্রয়ন কেন্দ্র গুলোতে আমাদের ৯টি টীম কাজ করেছে। তাছাড়া, প্রতিনিয়ত আমরা সরকারি ঔষধ বিতরন করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বন্যার্তদের সহযোগীতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে ত্রান সহায়তা চিকিৎসা সেবা আমরা নিশ্চিত করেছি। উপজেলা পরিষদের পক্ষথেকেও ত্রান সেবা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, পূনর্ভাসনের জন্যও সরকারের কাছে তালিকা প্রেরন করেছি।