স্মরণকালের বয়াবহ বন্যায় ভাসছে কুমিল্লা। কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার মধ্যে প্লাবিত হয়েছে ১৪টি। লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষি, মৎস ও প্রানী খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমান ৪১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৪১ হাজার ৮শত টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৮শত ৯৪ হেক্টর ফসলি জমি। উৎপাদনে ক্ষতির পরিমান ১০ হাজার ৩৪২ মে.টন। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমান ২ হাজার ১শত ৯৭ হেক্টর। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ফসলি জমির পরিমান ১ হাজার ৮শত ৬০ হেক্টর। এবং বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসলের পরিমান ৪ হাজার ৬১ হেক্টর।
প্রাণী সম্পদে ক্ষতির পরিমান ২৯ কোটি টাকা। তারমধ্যে, মৃত. পশুপাখির মোট ক্ষতির পরিমাণ ৭ কোটি টাকা, বিনষ্ট ও পশুপাখির ঘাসের পরিমান ২৪শত (টন) যার মূল্য ৪ কোটি টাকা, বিনষ্ট পশুপাখির দানাদার খাদ্যর পরিমান ৬শত টন যার মূল্য ৩ কোটি টাকা, ক্ষতিগ্রস্থ খামারের সংখ্যা ৬৪১টি এতে, গবাদিপশুর সংখ্যা ৫৬ হাজার। যার মূল্য ৩কোটি টাকা। এছাড়াও, হাঁস মুরগীর খামার রয়েছে ৩২২ টি যার ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি টাকা। বন্যায় কবলিত হয়ে মারা গিয়েছে ১৬টি গরু,২৩ ছাগল, ২ লক্ষ ১২ হাজার মুরগি,৭শত হাঁস।
মৎসখাতে ক্ষতির পরিমান ৩ কোটি ৮৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। এতে,বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে ২ হাজার ৭শত ১৮টি পুকুর, ভেরি ও দিঘী। ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীরা ইতিমধ্যে ক্ষতির পরিমান উল্লেখ করে প্রনোধনা চেয়ে উপজেলা মৎস অফিসার বরাবর আবেদনও জমা দিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে যা আমরা মন্ত্রনালয়ে পাঠাবো এবং খামারীদের পাশে আমরা সব সময় রয়েছি।
উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ক্ষতিগ্রস্থ মৎসচাষীদের ৩০ টি আবেদন পেয়েছি যাতে,সকলে প্রনোধনা চেয়ে আবেদন করেছেন। এবং আমিও উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। প্রনোদণা আসলে আসা করি ক্ষতিগ্রস্থদের দেওয়া হবে।
এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিস কতৃক কৃষকদের প্রনোদার বীজ ও সার দেওয়া হচ্ছে বলে জান যায়।