কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের চরবাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী কোরবান আলীর তিন মেয়ে নিয়ে ঢাকা থাকেন। বড় মেয়ে মালয়েশিয়ায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। গতকাল (শুক্রবার) বিকালে বিয়ার মালয়েশিয়া ফিরে যাওয়ার কথা ছিল । যাওয়ার আগে ভিকারুননেসা পড়ুয়া ছোট বোন আরিশা ও সিটি কলেজে পড়ুয়া খালাতো বোন লিমুকে ট্রিট দিতে কাচ্ছি খেতে গিয়েছিল বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ নামক রেস্টুরেন্টে।
খাওয়ার আগে হঠাৎ আচমকা আগুনের কুন্ডলী দেখে বাবাকে ফোন দিয়ে বলে, ‘বাবা আমাকে নিয়ে যাও। আমাকে এখান থেকে বাঁচাও’।
আগুন লাগার পর মেয়ের ফোন পেয়ে বাঁচার আকুতি দেখে আমি পাগল হয়ে যাই, আমার দুই রত্নের খোঁজে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের মর্গে গেলে দেখি আমার দুই মেয়েসহ আমার পরিবার তিন বোনের নিথর দেহ।
তিনি আরো বলেন,আমার মেয়ে কেঁদে কেঁদে বলছিলো, বাবা আমাকে বাঁচাও। আমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাও। সাথে আমার বায়রার মেয়েও ছিলো। আমার মেয়েরা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো। আমার মেয়ের কেঁদে কেঁদে বলা কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজছে। আমি পারি নি আমার মেয়েদেরকে বাঁচাতে, আমি পারি নি।
শুক্রবার (১ মার্চ) দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধিকে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের চরবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলেছেন নিহত রিয়া ও আরিশার পিতা কোরবান আলী।
রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। এর মধ্যে কুমিল্লার আপন খালাতো ৩ বোনসহ চার নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে এবং রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর এলাকার পদ্মা সাহা, সদর উপজেলার কোটবাড়ি হাতিগড়া এলাকার নুসরাত জাহান শিমু, লালমাই উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকার ফৌজিয়া আফরিন রিয়া ও ব্রাহ্মণপাড়া কান্দুঘর জান্নাতিন তাজরিসহ চারজন নিহত হয়েছে ।