কুমিল্লার লালমাইয়ে একটি পুকুরের পাড় ধসে ঝুঁকিতে পড়েছে পুকুরপাড়ে থাকা একটি এক তলা ভবন। গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের জয়নগর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। গাছপালাসহ পুকুরপাড় ভেঙে পড়ায় পুরো পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য দেলোয়ার হোসেন জানান, আমরা বসত স্থাপন করার আগেও আমাদের বসতের উত্তরপাশে পুকুরের জায়গাটি ভিটি ছিল। সেই ভিটির মালিকানায় রয়েছে পাশের বাড়ির অলি উল্লাহ ও আবদুর রহমান। তারা গত ১০ বছর আগে ভিটির প্রায় ৫ফুট মাটি খনন করে ভিটিকে পুকুরে পরিণত করে। তখন থেকেই আমাদের বসত এবং পুকুরের পাড় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু বিগত ৩বছর আগে আরও প্রায় ১০ফুট খনন করে মাটি বিক্রি করে। যার ফলে বর্তমানে অতি বৃষ্টিতে পুকুরপাড়সহ আমাদের বসতের প্রায় ১৫ফুট জায়গা ভেঙে যায়। মাটি খনন করার সময় আমরা বাঁধা দেওয়ার পরও বিবাদীগণ তা কর্ণপাত করেনি। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার আমাদের বসতঘর এবং বসতঘরের সাথের গাছপালাসহ ভেঙে যাওয়ায় তাদেরকে বিষয়টি জানাতে গেলে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদেরকে মারতে আসে। পরবর্তীতে বিষয়টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং সর্দারকে জানাই। কিন্তু কোনো সমাধান মেলেনি। আমরা ২০২২ সালেও তৎকালীন ইউএনও’র নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, সমাধান পাইনি। এবারও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা প্রশাসনিকভাবে এটার সমাধান চাই।
এ ঘটনায় অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রহমান বলেন, আমরা তাদেরকে বহুবার বলেছি জমিটা মাপার জন্য তারা রাজি হয়নি। জমি মেপে চিহ্নিত হয়ে গেলে আমরা সীমানা পাড় দিবো।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, দেলোয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে আবদুর রহমান গংদের ডাকানো হলেও তারা সাড়া দেয়নি। তাই বিষয়টি সমাধান করা যায়নি।