কুমিল্লার ১৭তম উপজেলা লালমাই ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, এখানে জনসংখ্যা প্রায় ৩ লক্ষাধিক। দীর্ঘ সময় দরে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম ভাড়া বাসায় চালু থাকলেও বর্তমানে সরকারি ভবনে উঠে পরেছেন অনেক দপ্তর। নিয়মিত তাদের কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। লালমাই থানারও নেই নিজেস্ব কোন ভবন। ভাড়া বাসায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গত বছরের ৫ই আগষ্ট ছাত্র জনতার তোপের মুখে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকে বোল পাল্টে বিভিন্ন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে থানার সামনে কিংবা ভিতরে প্রতিনিয়ত দেখা মিলে দালালদের। যাদের অনেকেই তকদির বানিজ্য থেকে শুরু করে অসহায় মানুষদের সর্বশান্ত করেছে বলেও শুনা যায়।
এইবার এই সমস্ত দালালদের রুখে দিতে নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন লালমাই থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম।
আর তাই থানার প্রবেশ মুখে কিংবা থানার ভেতরে ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন সতর্ক বানী। যা দেখে সোসাল মিডিয়াতে তোলপাড় শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ লিখছেন এইবার দালালদের ভাত মরলো বুঝি। কেউবা আবার দালাল মুক্ত থানা লেখে পোষ্টও করেছেন।
শাহ আলম নামক বাগমারা বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, থানার দিকে যেতেই মনে হয় বাজার জমেছে৷ থানার ভিতরে বাহিরে সব সময় শুধু দরবার আর দরবার এই অবস্থা দেখে আমি নিজেও হতাশ হয়েছিলাম। তবে, এইবার ওসি সাহেব যে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন তা যদি বাস্তবায়িত হয়, সাধারণ মানুষেরও ভোগান্তি কমে আসবে।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক বিএনপির এক নেতা বলেন, একটা হযবরল অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। তবে, আশা করি আগামীদিনগুলোতে আর এমন থাকবে না।
লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার চাকরি জীবনে সব সময় চেষ্টা করেছি জনসাধারণের সেবা করার। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। সেবা নিতে আসা মানুষগুলো যেন প্রকৃত সেবা পেতে পারে সেজন্যই দালালদের সতর্ক করে দিয়েছি। তবুও যদি থানার অভ্যন্তরিন বিষয়ে কোন দালাল চক্র সুবিধা নিতে আসে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহন করবো। আমার অনুরোধ থাকবে সেবা প্রার্থী মানুষগুলো যেন সরাসরি ওসি কিংবা থানায় কর্মরত পুলিশের কাছে আসে। সাধারণ মানুষ তথা সেবা গ্রহিতাদের জন্য ২৪ ঘন্টা আমার দরজা রয়েছে।