বাবার লাশ ঘরে রেখে এসএসসি পরীক্ষা হলে বসে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করা সেই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়ছার।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) লালমাই উপজেলার মাতাইনকোট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদের গ্রামের বাড়িতে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিমাদ্রি খীসা গিয়ে তাঁর পরিবারের খোঁজ খবর নেন এবং তার মায়ের হাতে আর্থিক অনুধান এবং শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরন তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাতাইনকোট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, হরিশ্চর ইউনিয়ন হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াছ কাঞ্চন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার মাতাইনকোট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদের বাব আক্তার হোসেন (৪৫) রাত দেড়টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে দাপনের কথা থাকলেও নাহিদের এসএসসি পরীক্ষা থাকার কারনে দুপুর দুই টায় সময় নির্ধারন করা হয়। এবং নাহিদ পরীক্ষা শেষ করে এসে বাবার লাশ কাঁদে নিয়ে কবরে নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থী নাহিদ বলেন, বাবা আমার পৃথিবী ছিল। আমাদের পরিবারের একমাত্র অভিভাবক বাবা। মহান আল্লাহতালার যেন বাবাকে জান্নাতবাসি করে। মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় যে আর্থিক অনুধান পাঠিয়েছেন তাতে আমরা ওনার কাছে কৃতজ্ঞ।
শরীফ উদ্দিন নামক স্থানীয় একজন একজন বলেন, বাবার মৃত্যুর পর ছেলে পরীক্ষা দিয়েছে এমনটা সচারাচর দেখিনি৷ বুকে পাথর চেপে ছেলেটা পরীক্ষার হলে গিয়েছে। পরীক্ষা শেষে যোহরের নামাজ পরে বাবার লাশ কাঁদে নিয়েছে।
হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ইলিয়াছ কাঞ্চন বলেন, (১০ এপ্রিল) এসএসসির বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। আমাদের কেন্দ্রে ৫৮৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮০জন অংশগ্রহণ করেছে। ৬ জন ছাত্রী অনুপস্থিত ছিল। ছাত্রদের মধ্যে নাহিদ নামের একজন পরীক্ষার্থী বাবার মৃত্যুর পরও মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে এসেছেন। আর আজকে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পক্ষথেকে আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় পরিবারটির খোঁজ খবর নেন এবং আর্থিক অনুধান প্রদান করেন।
এই বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিমাদ্রী খীসা বলেন, জেলা প্রশাসক মো: আমিরুল কায়ছার স্যার বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হলে তৎক্ষনাৎ নাহিদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে স্যারের নির্দেশে নাহিদের মায়ের হাতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয় এবং নাহিদকে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়াও স্থানীয় মেম্বারকে নাহিদের মায়ের বিধবা ভাতা পাওয়ার ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়।